শেয়ার বাজার কি? শেয়ার বাজার কিভাবে কাজ করে

শেয়ার বাজার কি

শেয়ার বাজার কিভাবে কাজ করে  দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির এ যুগে মানুষ সব সময় চেষ্টা করছে যেন সে সব কিছুর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে সক্ষম হয়। আর এই প্রচেষ্টা থেকেই সে নিজের নির্দিষ্ট মাসিক ইনকামের চেয়েও যেন বাড়তি কিছু উপার্জন করতে পারে।

শেয়ার বাজার কি আর তা হলো অনেকে বাড়তি কিছু উপার্জন করার আশায় তার মূল কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন রকম কাজের সাথে যুক্ত হচ্ছে । যেমন : পার্ট টাইম জব, ছোট ব্যবসা অথবা ফ্রিল্যান্সিং ইত্যাদি। তবে বর্তমানে উপার্জনের আশায় আরও একটি সেক্টরে ঝুকেঁ পড়েছে যেটির নাম “শেয়ার বাজার” ।

শেয়ার বাজার এবং শেয়ার বাজার কিভাবে কাজ করে। এই বিষয় নিয়ে কনফিউশন এবং প্রশ্নের শেষ নেই। এজন্য আজকে আলোচনা করব শেয়ার বাজার কি ওশেয়ার বাজার কিভাবে কাজ করে, শেয়ার বাজার কত ধরনের সহ শেয়ার বাজার সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য নিয়ে-

আরও পড়ুনঃ ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম ও সুবিধা

শেয়ার বাজার কাকে বলে

শেয়ার বাজার কি? হচ্ছে বর্তমান যুগে বাড়তি ইনকামের জন্য অনেক পরিচিত একটি সোর্স হলো শেয়ার বাজার। আমরা বিভিন্ন রকম বিনোদনের মধ্যে শেয়ার বাজারের এড দেখতে পাই। শেয়ার বাজারের অপর একটি নাম হলো স্টক মার্কেট। শেয়ার বাজার দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত এবং এটি কি বুঝতে হলো প্রথমে এই শব্দের অর্থ জানতে হবে।

শেয়ার শব্দের অর্থ হলো কোনো কিছু ভাগ করে নেওয়া বা কোনো কিছুর অংশ ভাগাভাগী করা আর বাজার হলো সেই জায়গা যেখানে কোনো কিছু ক্রয় বিক্রয় করা হয়। সাধারণত শেয়ার বাজার হলো সেই জায়গা যেখানে সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানী তার মালিকানার কিছু অংশ বিক্রি করে যেটি ঐ বাজার থেকে এক বা একাধিক ব্যাক্তি অথবা ব্যাক্তি মালিকানাধীন কোনো কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠান তা কিনে নেয়।

এই সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানী মূলধন এবং আয়ের পরিমাণ বাড়ানোর আশাতে সেই প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানীর আংশিক কিছু মালিকানা বিক্রি করে এবং ঐ এক বা একাধিক ব্যাক্তি অথবা প্রতিষ্ঠান লাভবান হওয়ার জন্যই তা কিনে নেয়।

শেয়ার মার্কেট প্রধানত কয় প্রকারের হয়ে থাকে

একটি কোম্পানি যদি শেয়ার বাজারের তালিকাভুক্ত হতে চায় তাহলে ঐ কোম্পানীকে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। সেগুলা হলো:

  •  উক্ত কোম্পানির মালিকানায় ২০০ টি প্রতিষ্ঠান বা ২০০ জন লোক থাকতে হবে।
  •   সেই কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পুঁজি হিসেবে ৩০ কোটি টাকা থাকতে হবে।

 আর এই তালিকাভুক্ত কোম্পানীগুলো শেয়ার বাজারে ৪ ধরনের জিনিস বেচা-কেনা করে:

শেয়ার

স্টক মার্কেট বা শেয়ার বাজারে প্রতিযোগিতামূলক ভাবে যেটি বেচা-কেনা হয় তা হলো শেয়ার। শেয়ার বেচা-কেনা করার ক্ষেত্রে সব চেয়ে বেশি যে সুবিধাটি পাওয়া যায় তা হলো শেয়ার যে কোনো সময় কেনা এবং যে কোনো সময় বিক্রি করে দেওয়া যায়। অর্থাৎ আপনি যদি আজকে ১০ টি শেয়ার কিনে নেন আবার পরক্সণেই আপনার সিদ্ধান্ত বদলিয়ে তা বেচে দিতে চান তাহলে আপনি তৎক্ষণাত তা বিক্রি করতে পারবেন।

শেয়ার ৫ ধরনের হয়। যথা: প্রেফারেন্স শেয়ার, ইক্যুইটি শেয়ার, কিউমুলেটিভ প্রেফারেন্স শেয়ার,নন – ভোটিং সাধারণ শেয়ার, রিডেমেবল শেয়ার।

তবে এই ৫ ধরনের মধ্যে কেবলমাত্র ২ ধরনের শেয়ারের ব্যবহারই দেখা যায়আ আর সেগুলো হলো:

➤প্রেফারেন্স শেয়ার: লাভ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যে শেয়ারের মালিকরা অগ্রাধিকার পায় তাকে প্রেফারেন্স শেয়ার বলে।

ইক্যুইটি শেয়ার: লাভ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যে শেয়ারের মালিকরা অগ্রাধিকার পায় না তাকে ইক্যুইটি শেয়ার বলে।

ডিরাইভিটিভ-

ডিরাইভিটিভ হল লেনদেন এর এমন চুক্তি যেটি  আজকে হবে কিন্তু  এর লেনদেন এর হিসাব হবে পরে।  তবে এর প্রচলন বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেটে নেই।

বন্ড

বন্ড অনেকটা শেয়ারের মতো । তবে এই দুটিার মধ্যে সুক্ষ্ম একটি পার্থক্য রয়েছে। সেটি হলো শেয়ার কেনার পর আপনি তা তৎক্ষণাত বিক্রি করে দিতে পারেন। তবে বন্ড এর ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। কারণ বন্বের নির্দিষ্ট একটি মেয়াদ থাকে এবং সে মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে তবেই তা বিক্রি করা যায়।

মিউচুয়াল ফান্ড 

মিউচুয়াল ফান্ড -এ অনেক জন মানুষের টাকা এক সাথে জমা করা থাকেে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানিই হয়ে থাকে। আর সেই প্রতিষ্ঠানে প্রধান হিসেবে থাকেন একজন ব্যাক্তি যিনি শেয়ার বাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞ।

আরও পড়ুনঃ ডাচ বাংলা ব্যাংক সেভিংস একাউন্ট এর সুবিধা

শেয়ার বাজার কিভাবে কাজ করে

শেয়ার বাজার মূলত মাঝারি বড় এবং বড় কোম্পানি তাদের শেয়ার বিক্রির জন্য এবং স্বল্প আয়ের ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কেনার কাজে ব্যবহার করা হয়। আর এই কাজগুরো মূলত করে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ এর মাধ্যমে। মাঝারি বড় এবং বড় কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এটি বিক্রি করে এবং বিনিয়োগকারীরা লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে এটি কিনে।

শেয়ারে ক্ষতির অংশ বা লাভের অংশ নির্ধারণ করা হয় ক্রয়কৃত শেয়ারের অনুপাত অনুসারে। যার শেয়ারের অংশ যতটা বেশি তার লাভ বা ক্ষতির অংশও ততটাই বেশি। এখানে শেয়ার কেনা বেচার জন্য যে মূলধন ব্যবহার করা হয় তাকে Capital বলা হয়।

শেয়ার বাজারের তথ্য

শেয়ার বাজার দুই ধরনের হয়। যথা: প্রাইমারি শেয়ার মার্কেট ও সেকেন্ডারি শেয়ার মার্কেট

প্রাইমারি শেয়ার মার্কেট:

যখন প্রথম বারের মতো কোনো কোম্পানি তাদের কোম্পানির শেয়ার ও বন্ডগুলো IPO এর মাধ্যমে পাব্লিকের কাছে অফার করে তখন তাকে প্রাইমারি শেয়ার মার্কেট বলে।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে IPO কি? IPO এর পূর্ণরূপ হলো Initial Public Sharing যার বাংলা অর্থ হলো প্রাথমিক গণপ্রস্তাব। এই প্রক্রিয়ায় শেয়ার কিনতে চায় এমন আগ্রহী ব্যাক্তিরা শেয়ার ক্রয়ের জন্য আবেদন করে থাকে।

সেকেন্ডারি শেয়ার মার্কেট:

সেকেন্ডারি শেয়ার মার্কেট সাধারণত স্টক মার্কেট হিসেবে পরিচিত। এখানে মূলত ইনভেস্টরস এর দ্বারা কিনে রাখা স্টক বা শেয়ার গুলোকে বেচা কেনা করা হয়। বন্ড, ইক্যুইটি শেয়ার, প্রেফারেন্স শেয়ার এইগুলো মূলত এই বাজারেরই অর্ন্তভুক্ত।

শেয়ার কখন কেনা উচিত

শেয়ার বাজারে শেয়ার কেনার পূর্বে কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হবে এবং এতেই শেয়ার কেনার উচিত সময় কোনটি সে বিষয়টি পরিষ্কার ভাবে বোঝা যাবে। উক্ত বিষয়গুলো হলো:

প্রথমত, এমন কোনো কেম্পানি নির্ধারন করতে হবে যেটি মোটামুটি বেশ কয়েক বছর ধরে স্থায়ী এবং আগের তুলনায় উন্নাত করেছে।

দ্বিতীয়ত, যে প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির শেয়ার কিনতে চান সেটির বিষয়ে ভালো ভাবে খোঁজ খবর নিতে হবে। কোম্পানির ব্যাকগ্রাউন্ড ভালো ভাবে চেক করতে হবে।

তৃতীয়ত, কোন কোন সময় শেয়ারের দাম কমে আর কোন কোন সময় বাড়ে এ বিষয়ে রিসার্চ করতে হবে।

চতুর্থত, সাধারণত মাসের শেষে শেয়ারের দাম বাড়ে ও মাঝখানে কম থাকে । তাই সেই সময় শেয়ার ক্রয় ভালো একটি অপশন।

পঞ্চমত, কোম্পানি শেয়ারের দাম যখন কম থাকবে তখন শেয়ার কিনতে হবে। ষষ্ঠত, কোম্পানির বিষয়ে বের হওয়া নেগেটিভ নিউজ এর উপর নজর রাখতে হবে ।কারণ এ সময় সাধারনত কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে যায়।

সপ্তমত, উক্ত কোম্পানির পাশাপাশি অন্য কোম্পানির ওপরও নজর রাখতে হবে।

শেষকথা

পরিশেষে এতটুকুই বলবো যে শেয়ার বাজার অনেক রিস্কের একটি জায়গা। এখানে লাভ হতে হতে হঠাৎই ধস নেমে যায়। তাই শেয়ার বাজার কি এবং শেয়ার বাজার কিভাবে কাজ করে ইনভেস্ট করতে হলে অব্যশই ভেবে চিন্তে করবেন। আর এইখানে তখনই ইনভেস্ট করবেন যখন ইকোনোমিক্যালি স্টেবল থাকবেন এবং আপনার হাতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি টাকা থাকবে।

আরও পড়ুন

আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়

Leave a Comment