ঘরে বসে মেকআপ করার নিয়ম ghore bose nije mockup korar neyom

ঘরে বসে মেকআপ করার নিয়ম

নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে সকলেই ভালোবাসে এবং চাই। তাই তো এ যুগের মানুষ নিজেকে সুন্দর দেখাতে এবং সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার জন্য সবচেয়ে সহজ পন্থাটি বেছে নিয়েছে যা হলো “মেকআপ” আর এই সাথে ঘরে বসে মেকআপ করার নিয়ম, সম্পর্কে জানলে মেকআপ করার জন্য পার্লারে যাওয়ার দরকার হবে না। মেকআপ এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে একজন মানুষ নিমিষেই তার মুখের ত্রুটি গুলো ঢেকে ফেলে, তার মুখকে তৎক্ষনাত ত্রুটিহীন ও সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে পারে। বর্তমান সময়ে এটি বেশ পরিচিত একটি জিনিস যা মানুষ বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান ব্যবহার করে থাকেন যেমন: বিয়ে বাড়ি, জন্মদিন,সেমিনার ঘুরাফিরা ইত্যাদি এসবে ব্যবহার করে থাকে।

নারী ও পুরুষের মধ্যে তুলনামূলক নারীরাই মেকআপ বেশি ব্যবহার করে। এর কারণ হিসেবে বলা যায় নারীর স্বভাবতই গোছানো স্বভাবের হয়ে থাকে, এবং সবসময় নিজেদেরকে গোছানো ও পরিপাটি ভাবে রাখতে পছন্দ করে। আর ঠিক এই জন্যই তারা নিজেদেরকে পরিপাটি রাখার একটি মাধ্যম হিসেবে মেকআপ-কে বেছে নিয়েছে। তাই বলে যে পুরুষরা মেকআপ ব্যবহার করে না এমন কিন্তু নয়। পুরুষরাও মেকআপ ব্যবহার করে। আপনি জনপ্রিয় কোনো মডেল, নাটক বা মুভির অভিনেতাদের লক্ষ করলেই তা বুঝতে পারবেন। তবে এটি অবশ্যই ঠিক যে নারীদের তুলানায় পুরুষদের মাঝে মেকআপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা কম।

মেকআপ করা নিয়ে এক অংশ মানুষের মনে ভুল ধারণা রয়েছে যা হলো ”মেকআপ করতে হলে পার্লারে যেতে হয়” এবং এটি একবারেই ভুল। কারণ সামান্য কিছু নিয়ম জানলেই ঘরে বসে মেকআপ করা যায়। তাই এখনই মন থেকে ঝেড়ে ফেলুন এবং ঝটপট পড়ে ফেলুন পুরো লেখাটি। জেনে নিন , কিভাবে ঘরে বসে মেকআপ করার নিয়ম করে নিজের পারফেক্ট লুক।


আরও পড়ুনঃ ফর্সা হওয়ার ডাক্তারি ক্রিম


মেকআপ করার নিয়ম

ঘরে বসে মেকআপ  করার নিয়ম গুলোকে সাধারণত  তিন ধাপে ভাগ করা যায়। নিচে সেই ধাপ গুলো তুলে ধরা হলো:

স্কিন প্রিপেয়ার করা

মেকআপ করার সময় সবার আগে মেকআপের জন্য স্কিনকে প্রিপেয়ার বা তৈরী করা বেশ জরুরি। কারণ আন- প্রিপেয়ারড স্কিনে মেকআপ সহজে বসে না এবং দেখতেও খুঁতখুতেঁ লাগে। অন্য দিকে মেকআপ এর জন্য স্কিনকে প্রিপেয়ার বা তৈরী করলে সে স্কিনে মেকআপ ভালো ভাবে বসে যায় এবং দেখতেও অনেক সুন্দর লাগে।

ক্লিনজিং

মুখে সচরাচর অনেক ময়লা জমে থাকে। তাই মুখে মেকআপ লাগানোর আগে অবশ্যই সেগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে। আবার অনেকের মুখের ত্বক বেশ তৈলাক্ত হয়। তৈলাক্ত স্কিনে মেকআপ ভালো হয় না।

আর মুখের স্কিন থেকে তৈলাক্ততা এবং ময়লাগুলো দূর করার কাজটিই করে ক্লিনজিং। ক্লিনজিং করার জন্য রেগুলার ইউজেবল ফেইসওয়াস ভালো ভাবে মুখে লাগিয়ে নিয়ে ফোম তৈরী করে নিন। এপর ভালো মুখের সবখানে ম্যাসাজ করুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন।

স্ক্রাবিং

মুখে মাঝে মাঝে এমন ধরনের কিছু ময়লা জমে যা সহজে ক্লিনজিং এর মাধ্যমে যেতে চায় না। এইসব ময়লা মুখ থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য স্ক্রাবিং করতে হয়।

স্ক্রাবিং করার জন্য যে কোনো একটি স্ক্রাবার যা আপনার স্কিনের জন্য উপযুক্ত তা মুখে লাগিয়ে নিন। যদিও বাজারে অনেক ধরনের স্ক্রাবার পাওয়া যায় কিন্তু আপনার কাছে যদি কোনো কারণে তা না থাকে তবে আপনি ডিআইওয়াই কোনো একটি স্ক্রাবার বানিয়ে মুখে লাগিয়ে নিতে পারেন। এরপর আলতো হাতে মুখে ম্যাসাজ করে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

টোনিং

স্কিন পরিষ্কার করার পর টোনিং করতে হয়। টোনিং এর ধাপটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ কারন টোনিঙ-এ মাধ্যমে স্কিনের পোর্জ গুলো বন্ধ করা হয় যে জন্য বাহিরে থেকে ময়লা স্কিনে ঢুকতে পারে না।

বাজারে মুখে ব্যবহারের জন্য স্কিন টাইপ অনুযায়ী অনেক রকম টোনার পাওয়া যায়। তবে রেগুলার টোনার হিসেবে গোলাপ জলও ইউজ করা যায়। টোনিং করার জন্য পছন্দ অনুযায় যে কোনো টোনার কেয়েক ফোঁটা হাতেত বা কটন বলে নিয়ে ট্যাপ ট্যাপ করে মুখে লাগাতে হবে।

ময়শ্চারাইজিং

স্কিন প্রিপেয়ারের সর্বশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি হলো ময়শ্চারাইজিং । ময়শ্চারাইজিং এর মাধ্য়মে মুখে বাইরে থেকে ময়শ্চার প্রদান করার হয় যাতে মুখের স্কিন শুষ্ক না হয়ে যায়।

ময়শ্চারাইজিং করার জন্য স্কিন আইপ অনুযায়ী যে কোনো ময়শ্চারাইজার মুখে ভালো ভাবে লাগিয়ে আলতো ঞাতে ভালো ভাবে ম্যাসাজ করে নিতে হবে যেন তা স্কিনে ভালোভাবে অবজারভ্ হয়ে যায়।

মেকাপ করতে কি কি লাগে

মুখে মেকআপ করার সময় যে কোনো প্রোডাক্ট যখন তখন মুখের যে কোনো অংশে লাগানো যাবে না কারণ এটি মেকআপের সঠিক পদ্ধতি নয়। এ জন্য ক্রমে ক্রমে মুখে মেকআপ প্রোডাক্ট এপ্লাই করতে হয়। ধারাবাহিক ভাবে কখন কোন প্রোডাক্ট লাগাতে হবে তা নিচে দেওয়া হলো:

ফেস মেকআপ প্রাইমার

মেকআপের শুরুতেই যে প্রোডাক্ট মুখে লাগাতে হরব তা হলো প্রাইমার। এটি মেকআপকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে এবং এর পাশাপাশি স্কিন ও মেকআপ এর মাঝে এমন একটি স্তর তৈরী করে যার জন্য মেকআপে বিদ্যমান প্রোডাক্টের দানা গুলো মুখের স্কিনে ঢুকতে পারে না।

হাতে অল্প পরিমাণ প্রাইমার নিয়ে হালকা হাতে ভালে করে মুখে লাগাতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে প্রাইোর যেন মুখে বেশি না লাগে কারণ এমন হলে মেকআপে চিটচিটে ভাব চলে আসে।

ফাউন্ডেশন

ফাউন্ডেশন কিছুটা হাতে বের করে নিয়ে ফোঁটা ফোঁটা করে মুখে ও গলাতে লাগিয়ে নিতে হবে। এরপর একটি বিউটি ব্লেন্ডারের সাহায্যে সেটি ভালো করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে যেন স্কিন দেখতে স্মুথ লাগে।

কনসিলার

মূলত স্কিনের কোনো দাগ,লালচে ভাব, চোখের ডার্ক সার্কেল ইত্যাদি হাইড করে মুখকে সুন্দর করে তোলার জন্য কনসিলার ব্যবহার করা হয়।

  • ডার্ক সার্কেল হাইড করার জন্য চোখের নিচে কনসিলার লাগিয়ে ত্রিভুজাকৃতির মতো আকতে হবে এবং এরপর ভালো করে ব্লেন্ড করতে হবে।
  • লালচে ভাব হাইড করার জন্য মুখের যেখানে লালচে ভাব আছে সেখানে কনসিলার লাগিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করতে হবে।

কনটোর

সামান্য ব্রঞ্জ পাউডার মেকআপ ব্রাশে নিয়ে মুখের ঠিক চিকবোন বরাবর, নাকের দুপাশে, চুলের লাইনে এবং কানের পাশে লাগাতে হবে এবং ভালো করে ব্লেন্ড করতে হবে।

ব্লাশ অন

হাসার সময় মুখের যে অংশটুকু উচুঁ হয় ঠিক সেখানে থেকে ব্লাশ অন লাগিয়ে কান পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে হবে। এরপর ব্লেন্ড করতে হবে যেন স্কিনের সাথে এডজাস্ট হয়ে যায়।

হাইলাইটিং

পছন্দ মতো হাইলাইটার ছোট ব্রাশে নিতে হবে এবং ঠোঁটের একদম ওপর দিকে, নাকের ডগায় ও গালের ব্ল্শ আন এর একদম ওপর দিকে লাগাতে হবে।

আই মেকআপ আইভ্রু

প্রথমে কনসিলার লাগিয়ে ভ্রু লাইন ক্লিন করে নিন এবং এরপর স্কিন শেড অনুসারে পছন্দসই আইভ্রু কালার আইভ্রু ব্রাশের সাহায্যে লাগিয়ে নিন।

আইশ্যাডো

আইশ্যাডো লাগানোর আগে আবশ্যই চোখে প্রাইমার ও কনসিলার লাগাতে হবে। এরপর স্কিন শেড অনুযায়ী এক অথবা দু কালারের আইশ্যাডো লাগিয়ে নিতে হবে।

কাজল ও আইলাইনার

সঠিক স্ট্রোকে কাজল ও আইলাইনার লাগানোর মাধ্যমে চোখের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলা যায়। এখন নীল,সবুজ  বিভিন্ন রংয়ের কাজল ও আইলাইনার পাওয়া যায় এবং মানুষ ব্যবহারও করে। তবে অন্য রংয়ের তুলনায় কালো রঙয়ের কাজল ও আইলাইনারই চোখে বেশি মানানসই লাগে।

মাশকারা

চোখের পাতা ঘন এবং বড় দেখাতে মাশকারা ব্যবহার করা হয়। এজন্য মাশকারা ব্রাশ নিচ থেকে উপরের দিকে ঘোরাতে হবে।

লিপ মেকআপ লিপ লাইনার

ঠোঁটের শেপ ঠিকঠাক আনতে লিপ  লাইনার দিয়ে লিপ লাইন এঁকে নিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে নুড শেড দিয়ে লিপ লাইন আকতে হবে এবং তারপর লিপস্টিকের শেডের সাথে ম্যাচ করা লিপ লাইনার দিয়ে লিপ লাইন আকতে হবে।

লিপস্টিক

পছন্দসই লিপস্টিক লাগাতে সকলেই ভালোবাসে। তবে এ ক্ষেত্রে স্কিন শেডের অব্যশই খেয়াল রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে লিপস্টিক যেন ঠোঁটের এড়িয়া থেকে বেড়িয়ে না যায় এ জন্য মাঝখান থেকে লিপস্টিক লাগানো শুরু করতে হবে।।

লিপস্টিক পুরো মেকআপে ফিনিশিং লুক আনতে সাহায্য করে এবং মুখের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়।


আরও পড়ুনঃ হেয়ার সিরাম ব্যবহার করার নিয়ম


মেকাপের জিনিসের নাম

সেটিং স্প্রে

পুরো মেকআপ কত সময় পর্যন্ত স্টে করবে তা নির্ভর করে এই জিনিসটির ওপর। একটি ভালো মানের সেটিং স্প্রে ৮ – ১০ ঘন্টা পর্যন্ত মেকআপ দরে রাখতে পারে।

একটি ভালো মানের সেটিং স্প্রে মুখ তেকে একটু দুরত্বে রাখুন এবন ২-৩ বার স্প্রে করুন।

শেষকথা

মুখে মেকআপ করার সময় যে কোনো প্রোডাক্ট যখন তখন মুখের যে কোনো অংশে লাগানো যাবে না, কারণ এটি মেকআপের সঠিক পদ্ধতি নয়। এ জন্য ক্রমে ক্রমে মুখে মেকআপ প্রোডাক্ট এপ্লাই করতে হয়। ধারাবাহিক ভাবে কখন কোন প্রোডাক্ট লাগাতে হবে। এবংমেকআপ করার সময় সবার আগে মেকআপের জন্য স্কিনকে প্রিপেয়ার বা তৈরী করা বেশ জরুরি। কারণ আন- প্রিপেয়ারড স্কিনে মেকআপ সহজে বসে না এবং দেখতেও খুঁতখুতেঁ লাগে। অন্য দিকে মেকআপ এর জন্য স্কিনকে প্রিপেয়ার বা তৈরী করলে সে স্কিনে মেকআপ ভালো ভাবে বসে যায় এবং দেখতেও অনেক সুন্দর লাগে।

নারী ও পুরুষের মধ্যে তুলনামূলক নারীরাই মেকআপ বেশি ব্যবহার করে। এর কারণ হিসেবে বলা যায় নারীর স্বভাবতই গোছানো স্বভাবের হয়ে থাকে, এবং সবসময় নিজেদেরকে গোছানো ও পরিপাটি ভাবে রাখতে পছন্দ করে। আর ঠিক এই জন্যই তারা নিজেদেরকে পরিপাটি রাখার একটি মাধ্যম হিসেবে মেকআপ-কে বেছে নিয়েছে। তাই বলে যে পুরুষরা মেকআপ ব্যবহার করে না এমন কিন্তু নয়। পুরুষরাও মেকআপ ব্যবহার করে।

আপনি জনপ্রিয় কোনো মডেল, নাটক বা মুভির অভিনেতাদের লক্ষ করলেই তা বুঝতে পারবেন। তবে এটি অবশ্যই ঠিক যে নারীদের তুলানায় পুরুষদের মাঝে মেকআপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা কম। আশা করছি উপরের এই নিয়মগুলো মেনে মেকআপ করলে, আপনি সহজেই ঘরে বসে মেকআপ করার নিয়ম জানতে পারবেন এবং মেকআপ করার জন্য আপনাকে আর পার্লারে যেতে হবে না।

 

 

আরও পড়ুন-

এক মাসে ফর্সা হওয়ার উপায় ১০টি কার্যকারী

ওজন কমানোর উপায় ডায়েট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।