সুখ কি? কিভাবে জীবনে সুখী হওয়া যায় ki-vabe-shuki-hoya-jai

সুখী হওয়ার ১০টি উপায়

সুখ কি? কিভাবে জীবনে সুখী হওয়া যায় এই বিষয় নিয়ে জানতে মানুষ অনেক আগ্রহি। সুখে থাকতে কে না চাই, সকলেই সুখে থাকতে চাই। সুখ এমন একটি শব্দ যার সন্ধানে সকলেই ব্যাস্ত।  সুখের সংজ্ঞা প্রত্যেকের নিকট আলাদা।কারো কাছে সুখ হলো স্বাধীনতা, কারও কাছে সুখ হলো সকলের সাথে মিলেমিশে থাকা ,আবার কার কাছে মনের সুখই আসল সুখ। আজ আলোচনার বিষয় সুখী হওয়ার ১০টি উপায়। সম্পদই অশান্তির কারণ “সুখ একটা আপেক্ষিক ব্যাপার। একজনের অনেক সম্পদ থাকলেও সুখ নেই। আবার আরেকজনের কিছু না থাকলেও সে সুখী থাকতে পারে। সুখে থাকার চাবি কাঠি রয়েছে নিজের হাতেই। ২০১৩ সালে ১৮০ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে এক গবেষণায় দেখা যায় ১৩ শতাংশ মানুষ তাদের সুখী মনে করেন। সুখী হওয়ার ১০টি উপায় মেনে চললে আপনি একজন সুখী মানুষ।

একজন সুখী মানুষের গল্প। এ গল্পটা আমরা অনেকেই জানি। মানুষকে ঠকিয়ে, মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে, ধনী হওয়া এক মোড়লের জীবনে শান্তি নেই। চিকিৎসক বলেছেন, কোনো সুখী মানুষের জামা গায়ে দিলে মোড়লের অসুস্থতা কেটে যাবে। কিন্তু পাঁচ গ্রামে খুঁজেও একজন সুখী মানুষ পাওয়া যায় না। অবশেষে একজনকে পাওয়া গেল, যে নিজের শ্রমে উপার্জিত টাকা দিয়ে কোনো রকম ভাবে জীবিকানির্বাহ করে সুখে দিন কাটাচ্ছে। তার নেই কোনো সম্পদ, ফলে চোরের ভয় নেই। তাই শান্তিতে ঘুমানোর ব্যাপারে তার কোনো দুশ্চিন্তাও নেই। তবে শেষ পর্যন্ত সুখী মানুষ পাওয়া গেলেও দেখা গেল তার কোনো জামা নেই। সুতরাং মোড়লের সমস্যার সমাধান হলো না।

সুখী থাকার ১০টি সহজ উপায়

মনিষীগনরা বিভিন্ন ভাবে তাদের মত অনুযায়ী সুখের সংজ্ঞা দিয়েছেনঃ

সুখ তখনই হয় যখন আপনি যা ভাবেন, আপনি কি বলেন এবং যা করেন তা  সামঞ্জস্যভাবে হয়।  ( মহাত্ন গান্ধী ) 

এই জীবনে সুখের জন্য তিনটি প্রয়োজনীয়তা হলো কিছু করা, কিছু ভালবাসা এবং কিছু আশা করা।( জোসেফ অ্যাডিসন )

১.সৎ থাকাঃ

নিজের কাছে সৎ থাকা সুখি হওয়ার অন্যতম উপায়। কেননা কোন মানুষ যখন নিজের মনের দিক থেকে সৎ থাকবে তখন সকল কাজেই শান্তি অনুভব করবে। নিজের মনে যে কাজকে অসৎ বলে মনে হবে তা পরিহার করা উচিত। নয়তো পরবর্তীতে সেই কাজ মনকষ্টের কারন হয়ে দাড়ায়। সব সময় ন্যায়ের পক্ষে কথা বলা উচিত। আদর্শ অনুসরন করলে জিবনে শান্তি পাওয়া যায়।

২.সুস্থ থাকাঃ

নিজেকে খুশী রাখার জন্য সুস্থ থাকা প্রয়োজন। শরীর সুস্থ থাকলে মন ভালো থাকে। তাই নিজেকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত খাবার খাওয়া খুবই গুরুত্ব পূর্ণ। পুষ্টি হীনতা মানুষের মনোভাবের ওপর প্রভাব ফেলে। সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত। নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর ফিট থাকবে। আর শরীর ভালো থাকলে মনের খিটখিটে ভাব দূর হয়। তাই সুস্থ থাকতে নিয়মিত অন্তত ১৫ মিনিট ব্যায়াম করা উচিত। 

৩.ইতিবাচক চিন্তা করাঃ

সুখে থাকতে চাইলে সর্বদা ইতিবাচক চিন্তা করা উচিত। কারন যে বিষয় নিয়ে চিন্তা করলে মন খারাপ হয় সেই বিষয় নিয়ে চিন্তা করা উচিত না। যে কাজ করলে নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা আসে সেই কাজ না করাই উত্তম। নেতিবাচক চিন্তা মানুষের মনকে দুর্বল করে দেয়। তাই সুখে থাকতে চাইলে নেতিবাচক চিন্তা পরিহার করে সর্বদা ইতিবাচক চিন্তা করা উচিত।

৪.নিজের ওপর ভরসা রাখাঃ

নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস থাকলে জিবনে সহজেই সুখি হওয়া যায়। নিজেকে যোগ্য ভাবতে হবে। নিজের ওপর ভরসা থাকলে সহজেই অনেক কাজে এগিয়ে থাকা সম্ভব। আত্মবিশ্বাসী মানুষ কখনও অসুখী হয় না। অন্য লোকে কি ভাবছে তা নিয়ে না ভেবে বরং আপনি আপনাকে নিয়ে ভাবুন এবং সঠিক কাজ করুন। 

৫.অল্পতে সন্তুষ্টি থাকাঃ

আমাদের মন সর্বদা বড় কিছু করতে চায়, এগুলো সবই আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা। আর এগুলোকে পূরণ করতে আমরা ছুটতে থাকি। আর যখন লক্ষ্য ভ্রষ্ট হই, তখন ডিপ্রেশনে চলে যাই। কিন্তুু আমাদের যা আছে, তাই নিয়ে আমাদের শান্তিতে থাকলে সুখি হওয়া যায়। তাই উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছেড়ে নিজের যা আছে তাই নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা উচিত।

 ৬.পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানোঃ

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও মানসিক সুস্থতার জন্য ঘুমের কোন বিকল্প নেই। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। পযাপ্ত ঘুম না হলে মেজাজ  খিটখিটে হয়। যার ফলে, মানুষের সাথে আচরণ খুব একটা ভাল হয় না। মানসিক অস্থিরতা আরও বেশি বৃদ্ধি পাবে। ভালো ঘুমের জন্য রুমের পরিবেশ ঘুমের জন্য উপযুক্ত তৈরি করা উচিত। অন্ধকার, ঠাণ্ডা ও শান্ত রুম ঘুমের জন্য উপযুক্ত।


আরও পড়ুনঃ পড়াশোনায় মনোযোগ আনার উপায়


 ৭.অন্যকে সাহায্য করাঃ

অপরের বিপদে সাহায্য করা মহৎ গুন। মন বড় থাকলে এমনিতেই জিবনে সুখি অনুভব করা যায়। নিঃস্বার্থ ভাবে কাউকে সাহায্য করলে মানসিক শান্তি বেড়ে যায়। গরীব কে সাহায্য করা উচিত । এতে মনের দিক থেকে অনেকটা শান্তি অনুভব করা যায়।

৮.প্রকৃতির সাথে সময় কাটানোঃ

সবসময় ঘরে না থেকে, সময় বের করে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা উচিত। প্রকৃতির মত  সুন্দর বন্ধু কেউ হতে পারে না।প্রকৃতির কোমল হাওয়ার স্পর্শে মনকে শান্তনা দেয়। তাই প্রকৃতির সাথে সময় কাটানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৯.পরিবারের সাথে সময় কাটানোঃ

অপর দিকে প্রকৃতির পাশাপাশি পরিবারের সাথে সময় কাটানো উচিত। পরিবারের সাথে সময় ব্যয় করলে সম্পর্ক দৃঢ় হয়। যার জন্য হতাশা কেটে যায়। বর্তমানে আত্ম হত্যা ও হতাশার অন্যতম কারন হলো পরিবারহীনতা।

১০.অন্যের সাথে তুলনা না করাঃ

নিজেকে কখনো অন্যের সাথে তুলনা করা উচিত না। নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করা ব্যাক্তি সর্বদা অসুখী থাকে। নিজের মধ্যে যা আছে তাই নিয়ে খুশি থাকার চেষ্টা করা উচিত। তাই অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা না করে, নিজের মধ্যে যা আছে তা দিয়ে চেষ্টা করা উত্তম। নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করলে দুশ্চিন্তা বাড়ে।


আরও পড়ুনঃ ছেলে ও মেয়েদের আকিকা দেওয়ার নিয়ম


উপসংহারঃ

সবশেষে বলা যায়, সুখের জন্যই আমরা জীবনের যত সংগ্রামে অবতীর্ণ হই। নিজের চলার পথ নিজেকেই তৈরি করে নিতে হবে। সুখের নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা না থাকলেও বিভিন্ন উপায়ে আমরা জিবনে সুখী হওয়ার চেষ্টা করি । সুখী হওয়ার অনেক উপায় রয়েছে। যত যাই হোক সর্বদা নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে । সকল প্রকার নেতিবাচক চিন্তা এড়িয়ে নিজেকে অভয় দিন, “দিন শেষে আমিই জয়ী “।  প্রিয় পাঠক আশা করি আপনি সুখ কি? কিভাবে জীবনে সুখী হওয়া যায় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আজ আমরা সুখ কি? কিভাবে জীবনে সুখী হওয়া যায় সম্পর্কে জানলাম। তাই সুখ কি? কিভাবে জীবনে সুখী হওয়া যায় সম্পর্কে জানতে সম্পুর্ন পোস্ট মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

 

আরও পড়ুন-

বাচ্চা নেওয়ার সঠিক সময়

প্রেগন্যান্সির লক্ষণ কি কি দেখা যায়

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।