হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার

হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় হার্ট ব্লক থেকে বাঁচার উপায়। হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানার আগে আপনাকে আগে জানতে হবে হার্ট সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। আমাদের শরীরে হার্ট এর গুরুত্ব কতটুকু? এবং শরীরের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মধ্যে আমরা হার্ট এর কেন এত বেশি যত্ন নেব?

এই সকল বিষয় আপনাকে জানতে হবে। তো চলুন কথা না বাড়িয়ে মূল আলোচনায় যাওয়া যাক। মানুষের শরীর থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি প্রাণীকুলের শরীরের  বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে  হার্ট খুবই জরুরী একটি অঙ্গ, যা হৃদপিণ্ড নামেও পরিচিত।

আমাদের বেঁচে থাকা, শারীরিক কর্ম ক্ষমতা, শারীরিক শক্তি, সবকিছু নিয়ন্ত্রক হচ্ছে হার্ট। আমাদের জীবনের সবকিছু নির্ভর করে  হার্ট এর উপর। হার্ট রক্ত সঞ্চালন করে বলেই আমাদের শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গে প্রয়োজনমতো পুষ্টি এবং শক্তির সঞ্চালিত সঠিকভাবে সম্ভব হয়। আমাদের শরীর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন করা এবং অক্সিজেন সরবরাহ করা এসব  কিছুর একমাত্র নিয়ন্ত্রক হচ্ছে হার্ট।

ধরুন আপনার শরীরের যে কোন একটি অঙ্গ  ক্ষতিগ্রস্ত হলো।খেয়াল করে দেখবেন শুধু সেই অঙ্গ ছাড়া আপনার শরীরের বাকি সব অঙ্গ ঠিকভাবে কাজ করবে। শুধুমাত্র আপনার ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গটি তার কার্যক্ষমতা হারাবে। সে ক্ষেত্রে বলা যায় কোন কারনে যদি আপনার হার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, হার্ট নিজের কর্ম ক্ষমতা হারায় সে ক্ষেত্রে হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার  জানা না থাকলে মানুষটি মারা যাবে।

হার্ট যদি কোন কারণে রোগ আক্রান্ত হয় বা দুর্বল হয়ে পড়ে সে ক্ষেত্রে সেই মানুষটিও দুর্বল হয়ে পড়বে, কমে যেতে থাকবে শারীরিক ও মানসিক কর্মক্ষমতা। আর তাই শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে হার্ট এবং মনে রাখবেন আপনার হার্ট ভালো থাকলে আপনিও ভালো থাকবেন।

আরও পড়ুনঃ হরমোন কি? হরমোনের সমস্যা বোঝার উপায়

হার্টের সমস্যার লক্ষণ

 হার্ট ব্লক হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু কারণ তুলে ধরা হলো।

  • অতিরিক্ত ওজন আপনার হৃদরোগের কারণ হতে পারে।
  • দীর্ঘদিন শরীরে ডায়াবেটিস রোগ থাকলে।
  • উচ্চরক্তচাপ দীর্ঘদিন থাকলে।
  • পরিবারে কারও  হৃদরোগ থাকলেও ( বংশগতভাবে) হৃদরোগের সম্ভাবনা থাকে।
  • অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণে হৃদরোগের সম্ভাবনা থাকে।
  • অতিরিক্ত  মাত্রায় মদ্যপানের অভ্যাস আছে, এমন ব্যক্তির হৃদরোগের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
  • খাবারের সাথে যদি অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের অভ্যাস থাকে।
  •  অতিরিক্ত উৎকণ্ঠা হৃদরোগের কারণ হতে পারে।
  • অতিরিক্ত অলস জীবন যাপন করা ও হৃদরোগের কারণ।
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষদের হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

হার্ট ব্লক থেকে বাঁচার উপায় 

একটি সুস্থ স্বাভাবিক জীবন পরিচালনার জন্য অবশ্যই জরুরি একটি সুস্থ হার্ট। কিন্তু এই হার্টকে সুস্থ রাখা টা যে কতটুকু চ্যালেঞ্জিং তা কি আমরা জানি? আমাদের প্রতিদিনের  জীবন যাপনে কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের হার্ট তা কি আমরা জানি?  সুস্থ-সুন্দর এবং আনন্দপূর্ণ স্বাভাবিক জীবনের জন্য দরকার একটি সুস্থ হার্ট অথবা হৃদযন্ত্র  কিন্তু এই হার্টটি কে সুস্থ রাখাই এখন একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

আধুনিক যুগে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় আমাদের নানামুখী পরিবর্তন এবং কর্ম পরিবেশ সবকিছুই যেন প্রতিনিয়ত একটু একটু করে আমাদের হার্ট কে প্রতিকূলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তার পরেও আমাদের হার্ট কে ভালো রাখতে হবে এবং ভালো রাখার উপায় জানতে হবে। আর হার্ট ভালো রাখার প্রধান উপায় হচ্ছে সুশৃংখল জীবনযাপন এবং সুশৃংখল জীবনযাপনের কোনো বিকল্প নেই।

আরও পড়ুনঃ ডায়াবেটিস কি? কেন হয়, করনীয়

হার্টের সমস্যা সমাধানের উপায়

ধূমপান ত্যাগ

হার্টব্লক হবার অন্যতম প্রধান কারণ ধূমপান। ধূমপানের কারণে মানবদেহে তামাকের বিভিন্ন রকম বিষাক্ত পদার্থ প্রবেশ করে এবং যার প্রতিক্রিয়ায় মানবদেহে উচ্চরক্তচাপ সহ শিরায় এবং ধমনীতে বিভিন্ন প্রকার রোগ হৃদয়ে বাসা বাঁধে হার্টব্লক সৃষ্টি হতে পারে আর এ কারণে ধূমপান অবশ্যই ত্যাগ করা উচিত। নিজে ধূমপান ত্যাগ করুন এবং ধূমপায়ীদের সংস্পর্শ থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন এর সাথে সাথে বিভিন্ন প্রকার তামাক, জর্দা, গুল জাতীয় পদার্থ নিজের জীবন থেকে পরিহার করুন।

অ্যালকোহল বা মাদক গ্রহণ বর্জন করা

হার্ট সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে আপনাকে অবশ্যই অ্যালকোহল বা মাদক দ্রব্য পান পরিত্যাগ করতে হবে। কারণ অতিরিক্ত মদ্যপান মানে আপনার শরীরের রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়া এবং রক্তচাপ বেড়ে গেলে আপনার হৃদস্পন্দন বেড়ে যাবে ফলে হার্ট এর ওপর অতিরিক্ত প্রভাব ফেলবে যার  কারণে আপনার উচ্চ রক্তচাপ সহ অন্যান্য জটিল রোগ শরীরে বাসা  বাঁধবে । সুস্থ-সবল থাকার জন্য আপনাকে মাদক গ্রহণ ও পরিহার করতে হবে।

নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করা

আপনার হার্ট কে সুস্থ রাখতে আপনাকে অবশ্যই নিয়ম করে প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য কিছু শারীরিক ব্যায়াম বা পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে  সেটা হতে পারে জোরে জোরে হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, দড়ি লাফানো অথবা দৌড়ানো। এর ফলে আপনার শরীরের রক্ত চলাচল যেমন স্বাভাবিক থাকবে তেমনি আপনার শরীরের অতিরিক্ত চর্বি  ঝরে পড়বে এবং আপনার রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকবে। এগুলো অবশ্যই আপনাকে আপনার হার্ট ভালো রাখতে নিয়ম করে করতে হবে।

অনিয়ন্ত্রিত ওজন বৃদ্ধি

আপনার হার্ট ভালো রাখতে আপনাকে অবশ্যই আপনার শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে যার কারণে আপনাকে নিয়ম মেনে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করতে হবে  কারণ অতিরিক্ত ওজন বা শারীরিক স্থলতা হৃদরোগের অন্যতম কারণ। অতিরিক্ত ওজন সম্পন্ন লোকদের উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যায় ফলে অল্পতে তারা হাঁপিয়ে ওঠে এবং হার্ট এর উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।  তাই শারীরিক ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপনাকে খাওয়া-দাওয়া  এবং জীবনযাপন  নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে শারীরিক পরিশ্রম বেশী করতে হবে।

মানসিক ও শারীরিক চাপ মুক্ত থাকা

আপনার হার্ট ভালো রাখার অন্যতম আরেকটি উপায় হচ্ছে আপনার নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপমুক্ত রাখতে হবে কারণ অতিরিক্ত রাগ, ভয়-ভীতি, উত্তেজনা এসব  নানা কারণে আপনার শরীরে  উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং যার কারণে আপনার হার্টব্লক দেখা দিতে পারে। আর এই মানসিক ও শারীরিক চাপ মুক্তির জন্য আপনাকে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করতে হবে।

শারীরিক ও মানসিক  বিশ্রামের জন্য নিয়ম মেনে দিনে কমপক্ষে ছয় থেকে আট ঘণ্টা আপনাকে  ঘুমাতে হবে যা আপনার শরীরকে অতিরিক্ত ক্লান্তি থেকে বিশ্রাম দিতে পারে। এছাড়াও আপনি আপনার নিজের ধর্মচর্চা করে, অবসরে নিজের শখের বাগানে কাজ  করে অথবা আপনার পোষা কোন পশু পাখির সাথে সময় কাটিয়েও আপনি আপনার অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে পারেন এবং খেলাধুলা, বই পড়া, যোগব্যায়াম, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়েও আপনার মানসিক চাপ কমাতে পারেন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ

আপনি যদি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে  এখনই সচেতন হতে হবে কারণ ডায়াবেটিকস রোগীদের উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয় এবং উচ্চ রক্তচাপের ফলেই হার্ট সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়  এ কারণে  আপনাকে অবশ্যই আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

অতিরিক্ত লবন খাওয়া পরিহার করা

আপনি আপনার হার্ট কে সুস্থ রাখতে হলে  আপনাকে অবশ্যই অতিরিক্ত লবন খাওয়া পরিহার করতে হবে কারণ লবণ থাকে সোডিয়াম যা শরীরে  রক্তের  ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয়  ফলে শরীরে রক্তচাপ বেড়ে যায় যার ফলে  হার্টব্লক দেখা দেয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই তরকারিতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত লবন খাওয়া বাদ দিতে হবে এবং অনেকে খাবারের সঙ্গে লবণ খেয়ে থাকেন এটাও পরিহার করতে হবে  কারণ অতিরিক্ত লবণ মানেই শরীরে উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া এবং আপনার হার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।

চর্বিযুক্ত খাবার ত্যাগ করা

অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার আমাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় যার ফলে রক্তে চর্বি জমে যায় এবং রক্তনালীর দেয়াল পুরু ও শক্ত হয় যায় ফলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্থ হয় এবং আমাদের হার্টব্লক দেখা দেয়। তাই আমাদের কম চর্বিযুক্ত এবং কোলেস্টেরল মুক্ত খাবার বেশি বেশি করে খেতে হবে। গরু ও খাসির মাংস, কলিজা,মগজ এসব কম খেতে হবে। কম তেলে রান্না করা খাবার  খেতে হবে।

ফাইবার বা আঁশ যুক্ত খাবার গ্রহণ  

আমাদের হার্ট কে ভালো রাখতে হলে আমাদের বেশি বেশি আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে  এবং নিয়ম মেনে এসব খাবার গ্রহণ করলে আমরা আমাদের হার্ট কে ভালো রাখতে পারব। আঁশযুক্ত খাবারের মধ্যে আছে আটার রুটি, সুজি এবং বিভিন্ন ধরনের সবুজ শাকসবজি, ফলমূল ইত্যাদি।

তাজা ফলে প্রচুর পরিমাণে খনিজ,ভিটামিন এবং ফাইবার থাকে এবং  এগুলোতে ক্যালোরি কম থাকে  ফলে শরীরে অনেক বেশি এন্টি-অক্সিডেন্ট উৎপাদন করে ফলে আমাদের হার্ট থাকে সতেজ  এবং সুস্থ-সবল।  তাই আমাদের যতটা সম্ভব ফাস্টফুড, তেল চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে এবং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বাদাম দুধ রাখতে পারলে তা  হূদযন্ত্রের জন্য খুবই উপকারী।

হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা

হার্ট ব্লকের একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে উচ্চ রক্তচাপ। যারা দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তাদের হার্ট ব্লক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। তাই উচ্চ রক্তচাপের যে কোনো লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার নিয়মগুলো মেনে চলুন।

আরও পড়ুনঃ উচ্চ রক্ত চাপ কী? উচ্চ রক্ত চাপ কমানোর উপায়

হাট ব্লক বুঝার উপায়

নিম্নে কিছু হার্ট ব্লক বোঝার উপায়  নিয়ে আলোচনা করা হলঃ

হার্ট ব্লক বা হার্টের রক্তনালী ব্লগ কি

আমাদের শরীরে অসংখ্য রক্তনালী রয়েছে যা শরীরের প্রত্যেকটি কোষের মধ্যে পুষ্টি উপাদান ও অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটা পরিচালনা করে আমাদের  হার্ট বা হৃদপিণ্ড। হার্ট অনবরত পাম হতে থাকে যার ফলে শরীরের সমস্ত রক্তনালী গুলোতে অক্সিজেন এবং পুষ্টি উপাদানগুলো পৌঁছায়, রক্তনালী গুলো সজাগ থাকে।

করোনারি আর্টারি(Coronary artery)  নামক কিছু রক্তনালী রয়েছে যা হার্টের কোষে রক্ত, অক্সিজেন ও পুষ্টি  সরবরাহ করে। যখন রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে যায় অথবা রক্তনালিতে চর্বি অথবা  কোলেস্ট্রল জমে তখন রক্ত চলাচলে বাধা প্রাপ্ত হয় আর একেই বলা হয়  হার্ট ব্লক বা হার্টের রক্তনালী ব্লক।

হার্ট ব্লক হার্টের রক্তনালীতে ব্লক কি কারনে হয়

হার্টের রক্তনালী ব্লকের একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে ধূমপান করা।অনিয়ন্ত্রিত মাত্রা অতিরিক্ত উচ্চ রক্তচাপ। অনিয়ন্ত্রিত মাত্রা অতিরিক্ত ডায়াবেটিকস। রক্তে চর্বি অথবা ক্রস টয়লেট পরিমাণ অনেক বেশি থাকলে। জেনেটিক অথবা পারিবারিক কারণে হার্টের রক্তনালীর ব্লক দেখা দিতে পারে।

কি কি সমস্যা হতে পারে হার্ট ব্লক হলে

হার্ট ব্লক হলে সর্বপ্রথম সমস্যাটি হচ্ছে আপনার  হার্ট এ সঠিকভাবে রক্ত সরবরাহ হতে পারে না ফলে হার্টের কার্যক্ষমতা কমে আসে, হার্ট দুর্বল হয়ে পড়ে, হার্ট এর পেশিগুলোকে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন এবং পুষ্টি উপাদান পায়না। আপনি যখন ব্যায়াম করবেন বা অধিক শারীরিক পরিশ্রম করবেন তখন আপনার  হার্টে একটি চাপ তৈরি হবে(Chest discomfor), আপনি তীব্র ব্যথা অনুভব করবেন, যাকে বলা হয় অ্যানজাইনা(Angina)

এরপর ফলে আপনার হার্ড এ হতে পারে (Chronic stable angina)। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো হার্টের রক্তনালীতে যদি মাত্রা অতিরিক্ত  চর্বি জমে তাহলে একসময় রক্তনালী সিটে যেয়ে রক্তক্ষরণ হয়। রক্তনালীর বাহিরে ছোট ছোট রক্তের জমাট বাঁধে এতে রক্তনালী পুরো বন্ধ হয়ে যায় এবং হার্ট অ্যাটাক হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় অ্যাকিউট করোনারি সিনড্রোম (Acute coronary syndrome)

কোন ক্ষেত্রে হার্টের রিং বা (Stenting) বসাতে হয়

Stenting একটি করোনারি ধমনীর মধ্যে সংকীর্ণ বা ব্লকেজের  চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি স্টেন্ট হল একটি ক্ষুদ্র, প্রসারণযোগ্য ধাতব নল যা একটি সরু বা অবরুদ্ধ ধমনীতে ঢোকানো হয় যাতে এটি খোলা রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তকে স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে দেয়। এটি প্রায়শই বেলুন এনজিওপ্লাস্টির সাথে একযোগে করা হয় এবং এটি করোনারি ধমনী রোগের সামগ্রিক চিকিৎসার পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 কিছু ক্ষেত্রে রোগীর তিনটি বা তার অধিক রক্তনালীর ব্লক দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে রিং পরানো যেতে পারে। তবে যদি রোগীর বামদিকে (Left main coronary artery stenosis) মূল রক্তনালী ব্লক হয় সে ক্ষেত্রে বাইপাস সার্জারি করাতে হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে দেখা  যায় রোগী বাইপাস সার্জারি করাতে ভয় পান সে ক্ষেত্রে রিং পরানো যেতে পারে। বর্তমানে (Drug Eluting Stent) আবিষ্কার হওয়ার পর থেকে খুব কার্যকর ভাবে রিং বসানো সম্ভব হচ্ছে।

শেষ কিছু 

আমরা আগেও বলেছি আবারো বলছি হার্ট ব্লক খুবই জটিল একটি সমস্যা। তবে প্রাথমিক অবস্থায় রোগটি ধরা পড়লে অনেকটাই ঝুকিমুক্ত থাকা যায়। তাই আপনার ছোট ছোট শারীরিক পরিবর্তন গুলো কেউ কখনো অবহেলা করবেন না ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোর দিকে খেয়াল রাখুন এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। মনে রাখবেন আপনার সঠিক জীবন যাপন আপনার হার্টকে সুস্থ রাখবে।

কথায় আছে, ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’। তাই আপনার হার্ট ব্লক হবার আগেই আপনার হার্টের যত্ন নিন। তাই হার্টের সমস্যার লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে সম্পুর্ন পোস্ট মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

আরও পড়ুন-

ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

ডায়াবেটিস রোগীর খাবার তালিকা

Leave a Comment