জাজাকাল্লাহ খাইরান অর্থ কি? jajakallha khairon ortho ki?

জাজাকাল্লাহ খাইরান অর্থ কি

জাজাকাল্লাহ খাইরান অর্থ কি আমরা অনেকেই জানিনা। জাজাকাল্লাহ খাইরান একটি আরবি শব্দ। আজকে আমরা আলোচনা করব জাজাকাল্লাহ খাইরান এর অর্থ সম্পর্কে। এবং কেউ যদি আমাদের জাজাকাল্লাহ খাইরান বলে তাহলে আমরা কি বলে উত্তর দিব সে সম্পর্কে আলোচনা করব। আমাদের কেউ যদি কোন উপকার করে তাহলে আমরা জাজাকাল্লাহ বলে থাকি। 

কিন্তু আমরা অনেকেই জাজাকাল্লাহ খাইরান এর অর্থ জানিনা। কেউ যদি আপনার সামান্য উপকার করে থাকে তাহলে জাজাকাল্লাহ খাইরান বলে থাকেন এটা একটি মুসলমানের গুন। অনেকে শুধু জাজাকাল্লাহ বলে থাকে। কিন্তু জাজাকাল্লাহ খাইরান বলাটা উত্তম। জাজাকাল্লাহ খাইরান অর্থ কি – অর্থ হলো আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিক।

জাজাকাল্লাহ খাইরান অর্থ

আরবি শব্দ জাজাকাল্লাহ এর বাংলা অর্থ হলো “আল্লাহ পাক আপনাকে পুরস্কৃত করুন।” শুধু আল্লাহ আল্লাহ পাক আপনাকে পুরস্কৃত করুন এটা যেমন কষ্ট হয়না। এখানে উল্লেখ করা হয়েছে আল্লাহ আপনাকে কি দিবে সেটা। এখানে শুধু আল্লাহ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ আপনাকে দিবে কিন্তু কি দিবে সেটা উল্লেখ নাই। ভালো কিছু দেবেনা খারাপ কিছু দিবে। এই কারণে কারও উপকারে উপকৃত হলে তার ভাল প্রশংসা করতে হয়। এবং ভালোভাবে শুকরিয়া আদায় করতে হয় আল্লাহর নিকট। কারো শুকরিয়া আদায় করার সম্পন্ন উক্তিটি হল জাজাকাল্লাহ খাইরান যার অর্থ হলো “পাগলা হুক আপনাকে ভালো পুরস্কৃত করুন।

জাযাকাল্লাহু খাইরান বলা জরুরিতা

মানুষ মাত্রই মানুষের উপকার করে। যে ব্যক্তি কারো উপকার করে তার জন্য দোয়া বা কল্যাণ কামনা করা প্রত্যেকেরই উচিত। এ বিষয়ে আমরা সাধারণত সতর্ক হই না। অথচ কেউ কারো উপকার পেয়ে এ দোয়া পড়ার পর শ্রবণকারীও দোয়াকারীর জন্য একটি দোয়া করা জরুরি হয়ে পড়ে। যা জানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অতিব জরুরি।

ইসলামি কোন স্কলার যদি বলা হয় জাজাকাল্লাহ তাহলে তিনি তার সাথে খাইরান যোগ করে দেন এবং তিনি সকলকে জাজাকাল্লাহ খাইরান বলার জন্য বলেন। তাই আমরা কারো শুকরিয়া আদায় করতে জাজাকাল্লাহ খাইরান বলবো।


আরও পড়ুনঃ আকিকার সঠিক নিয়ম কি? ছেলেদের আকিকা দেওয়ার নিয়ম।


জাযাকাল্লাহ খাইরান

আপনি কি জানেন জাজাকাল্লাহ খাইরান অর্থ কি? আপনি যখন কাউকে ভালো, সুন্দর বা তার পছন্দসই কোন কাজ উপহার দেন তখন অধিকাংশ মুসলমানই আপনাকে বলে থাকে জাজাকাল্লাহ খাইরান। আমরা এই বাক্যটির অর্থ কি জানিনা। আসুন জেনে নেই বাক্যটির অর্থ। এর বেশ কয়েকটি অর্থ মদিনার স্কলারগন উল্লেখ করেছেন। শুধু জাজাকাল্লাহ খাইরান বললে কি কি দোয়া করা হয় নিচে তা দেখে নিন।

  1. খাইর শব্দটি সে সমস্ত বিষয় বোঝায় যা আল্লাহর নিকট প্রিয়। তাই “খাইর” শব্দের মাধ্যমে আপনার জন্য সব ধরনের কল্যাণ কামনা করা হয়।
  2. জাজাকাল্লাহ খাইরান” অর্থ. আল্লাহ আপনাকে জান্নাত এবং জান্নাতে তার দিদার দ্বারা ভাগ্যবান করুন।
  3. জাজাকাল্লাহ খাইরান” অর্থ. আল্লাহ আপনাকে কাফেরদের স্থান জাহান্নাম থেকে হেফাজত করুন।
  4. জাজাকাল্লাহ খাইরান” অর্থ. আল্লাহ যেন আপনাকে সিরাতে মুস্তাক্বিম তথা সরল পথে পরিচালনা করেন।
  5. জাজাকাল্লাহ খাইরান” অর্থ. আল্লাহ যেন আপনার উপর কোন অভিশপ্ত শয়তানের চাপিয়ে না দেয়।
  6. জাজাকাল্লাহ খাইরান” অর্থ. আল্লাহ যেন আপনার রিজিকের মধ্যে বরকত দান করে।
  7. জাজাকাল্লাহ খাইরান” অর্থ. শেষ দিবস পর্যন্ত আল্লাহ যেন আপনাকে মাতা পিতার প্রতি সদ্য ব্যবহারকারী করেন।
  8. জাজাকাল্লাহ খাইরান” অর্থ. আল্লাহ যেন আপনাকে রাসুলের সুন্নতে অনুসারী করেন।
  9. জাজাকাল্লাহ খাইরান” অর্থ. আল্লাহ আপনাকে নেক সন্তান দান করুন।
  10. জাজাকাল্লাহ খাইরান” অর্থ. আল্লাহ আপনাকে সব ধরনের কল্যাণ দান করুন।

জাজাকাল্লাহ খাইরান এর উত্তর দেওয়ার নিয়ম

জাজাকাল্লাহ খাইরান এর উত্তরে ওয়াায়িইইয়াক  (এক জনকে) বা ওয়ায়িইয়াকুম (এওকর অধিককে) ব্যবহৃত হয়। যার অর্থ হলো “এবং আপনার/আপনাদের প্রতিও”। তবে বেশি প্রচলিত উত্তর হল ওয়া আনতুম ফাজাযাকুল্লাহু খায়রান, যার অর্থ “আপনাকেও আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দান দিন”।

প্রায় সবসময়ই আপনারা শুনতে পাবে অ-আরবি মুসলমানেরা সংক্ষিপ্ত সংস্করণ ব্যবহার করে থাকে কারণ এটা আবৃত্তি সহজ এবং দ্রুত। যদিও শ্রোতা বুঝতে পারেন আপনি জাজাকাল্লাহ দিয়ে কি বুঝাতে চাইছেন। কিন্তু জাজাকাল্লাহ খাইরান ব্যবহার করাটাই ভালো। হাদীসে উল্লেখ রয়েছে, একজন ব্যক্তির জন্য পূর্ণ সংস্করণ বলাই উত্তম।

জাজাকাল্লাহ খাইরান পুরুষ ও মহিলাদের জন্য

জাজাকাল্লাহ খাইরান অর্থ কি পুরুষ ও মহিলাদের জন্য সামান্য কিছু পার্থক্য রয়েছে।

  • পুরুষদের জন্য ব্যবহৃত হয় জাযাকাল্লাহ
  • মহিলাদের জন্য ব্যবহৃত হয় জাযাকিল্লাহ

পুরুষ ও মহিলাদের ক্ষেত্রে শুধু এটুকুই পরিবর্তন হয়েছে।

জাজাকাল্লাহ খাইরান বলার সময়

এখন আমরা জানবো জাজাকাল্লাহ খাইরান কোন সময় বলতে হয় এবং কেন বলতে হয়। যখন কোন মুসলিম ভাই আমাদের কোন কাজ সঠিকভাবে করে থাকে তার ওপর আমরা সন্তুষ্ট হয়ে জাজাকাল্লাহ খাইরান বলে থাকি। বাংলায় আমরা ধন্যবাদ বলে থাকি। ইংরেজিতে থ্যাঙ্ক ইউ। বাংলা ও ইংরেজি এই দুটি শব্দ ব্যবহার ফলে আমরা ঐ ব্যক্তির সেই সময় প্রশংসা করে থাকি।

কিন্তু আমরা যদি কারো উপর সন্তুষ্ট হয়ে জাজাকাল্লাহ খাইরান বলে থাকি তাহলে সেই ব্যক্তির ইহকাল এবং পরকাল দুই জায়গায় ভালো চাই। ওই ব্যক্তি মৃত্যুর পরও এই দোয়ার ফজিলত পাবে। এই কারণে আমরা যদি কারো কাজে সন্তুষ্ট হয় তাহলে অবশ্যই জাজাকাল্লাহ খাইরান বলে তার শুকরিয়া আদায় করব।

উপসংহার:

জাজাকাল্লাহ খাইরান অর্থ কি এই শব্দটি ছোট হলেও গুরুত্ব অনেক। আমরা অনেকেই আগে জানতাম না জাজাকাল্লাহ খাইরান এর তাৎপর্য। এই কারণে জাজাকাল্লাহ খাইরান না বলে আমরা ধন্যবাদ বলে থাকি। এই পোস্টটি পড়ার পর মুসলিম ভাইয়েরা কারো শুকরিয়া আদায় করলে অবশ্যই জাজাকাল্লাহ খাইরান বলবেন।

জাজাকাল্লাহ খাইরান অর্থ কি? আমার বিশ্বাস উপরের আলোচনাটি পড়ে আপনারা ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। পুরো পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন-

নামাজ ফরজ কেন? নামাজ পড়ার নিয়মহালাল ব্যবসায়ের আইডিয়া

তওবা করার নিয়ম ও দোয়া

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।